সম্রাট-নগরের-নীলমনি🔎🔎পর্বঃ১
লেখকঃ#নীল 🖋🖋সিদ্ধার্ত: মম!!! মম! আম্মি! মাম্মাম! আম্মু! মা! মামনি! মাম্মি!
মম: আরে হয়েছে কি? এভাবে চিল্লাছিস কেন?
সিদ্ধার্ত: মম রিমি ও রিদ আসছে ইউএস থেকে।
মম: সিরিয়াসলি?
সিদ্ধার্ত: ইয়াপ।
মম: তো কি উপলক্ষে আসছে শুনি!
সিদ্ধার্ত: আমাদের গ্রামে ঘুরতে যাবে বলে আসছে।
মম: ওয়াও দ্যাট'স গ্রেট।
সিদ্ধার্ত: ইয়াহ্ মম আই নোউ।
মম: অনিশা আর অয়ন যাবে তোদের সাথে?
অনিশা: নাম নিয়েছো আর বান্দারা হাজির হয়ে গিয়েছে।
মম: আয় আয় কেমন আছিস?
অনিশা: খুউব ভালো। এখন বলো তুমি কেমন আছো?
মম: আমিও ভালো আছি। তা অয়ন আসে নি?
অনিশা: আসছে তো কোথায় গেল কে জানে!
অয়ন: আমি এখানে।
ওরা সবাই অয়নের গলা শুনে পাশে টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখে অয়ন বসে বসে স্যান্ডউইচ খাচ্ছে।
সিদ্ধার্ত: আবে মটু আর কত খাবি ফেটে যাবি তো।
অনিশা: ওর কাজ তো একটাই সারাদিন খালি খাওয়া আর খাওয়া।
মম: আহ্ এভাবে কেন বলছিস ওকে? ও নাহয় একটু বেশিই খায় এতে সমস্যা কোথায়?
সিদ্ধার্ত: পরে কেউ বিয়ে করতে চাইবে না ওকে।
মম: সে চিন্তা তোর কেন?
অয়ন: এজন্যই তো গার্লফ্রেন্ড আগে থেকেই পটিয়ে রেখেছি।
সিদ্ধার্ত: অনিশা তোর ব্যাডলাক রে! এরকম একটা মটুকে তুই নিজের জামাই বানাবি?
অনিশা: আসলেই কোন কুক্ষণে যে এইটার প্রপোজাল এক্সেপ্ট করছিলাম আল্লাহ্ জানে।
মম: আহ্ থাম তোরা।
রিদ: সারপ্রাইইইজ!!!
রিমি: হিহিহি।
সিদ্ধার্ত: তোরা? তোদের তো আগামীকাল আসার কথা ছিল।
রিমি: আগামীকাল আসলে তো আর সারপ্রাইজ দিতে পারতাম না।
রিদ: তাই আজকেই চলে এসেছি।
মম: খুব ভালো করেছিস।
রিমি: আমরা কিন্তু আগামীকালই রওয়ানা হচ্ছি গ্রামে যাওয়ার জন্য।
মম: আগামীকালই?
রিদ: হ্যা ভালো করে ঘুরতে হবে না?
সিদ্ধার্ত: খেলা হপ্পে!!!
অনিশা: ফাজিল জানি কোথাকার।
সিদ্ধার্ত: হুহ্।
অয়ন: হেই গাইস!!!
রিদ: আবে মটু তুই তো দিন দিন আরও মটু হয়ে যাচ্ছিস।
রিমি: কত খেতে পারিস তুই?
অয়ন: ট্যালেন্ট থাকতে হয়।
সিদ্ধার্ত: ভাগ্যিস তোর ট্যালেন্ট আমাদের নেই।
অয়ন: হাহ্।
মম: অনেক হয়েছে এবার থাম তোরা সবাই। রিদ, রিমি যা তোরা উপরে রুমে যেয়ে ফ্রেশ হয়ে নে। সিদ্ধার্ত, অয়ন আর অনিশা তোরা প্যাকিং করে নে। নাহলে কাল সকালে ফ্লাইট মিস হয়ে যাবে।
সবাই: ওকে মম।
মম: যা পাঁজির দল।
বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান সিদ্ধার্ত। তাই প্রচুর পরিমাণে ফাজিল আর দুষ্টু। কিন্তু মনটা অনেক ভালো। আজ পর্যন্ত ৪ টা রিলেশনে জড়িয়েছে। কিন্তু একটাও টিকে নি। কারন একটা মেয়েও ওর মন মতো ছিল না। সিদ্ধার্তর পরিবার রাজ পরিবার। আর এখন এই রাজ পরিবারের একমাত্র রাজপুত্র হলো সিদ্ধার্ত। বয়স এবার ২৬ এ পরলো। বাবার বিজনেসের সাথে জড়িত আছে। কিন্তু সহজে অফিসে যায় না। অনিশা, অয়ন, রিদ ও রিমি সিদ্ধার্তর বেস্ট ফ্রেন্ড। এর মধ্যে রিদ ও রিমি বিবাহিত। ৬ মাস হয়েছে ওদের বিয়ের।
রাতে সবাই একসাথে বসে ডিনার করে নিলো।
রিদ: আজকে আড্ডা হবে।
সিদ্ধার্তর ড্যাড: একদম না।
রিমি: কেন?
ড্যাড: সবাই এই মুহূর্তে ঘুমিয়ে পরবে। নাহলে সকালের ফ্লাইট মিস করে ফেলবে তো।
সিদ্ধার্ত: ওকে ড্যাড আমরা আজকে কেউ আড্ডা দিচ্ছি না। নাউ হ্যাপি?
ড্যাড: ইয়াহ্ মাই সান। নাউ গুড নাইট এভরিবডি।
সবাই: গুড নাইট।
পরদিন সকালে সবাই সিদ্ধার্তর বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফ্লাইটের জন্য রওয়ানা হলো। ৩ ঘন্টা পরেই ফ্লাইট এসে পৌঁছালো সিদ্ধার্তর গ্রামে অর্থাৎ রাজপুর।
রহমত সাহেব: কামরুল এতো দেরি কেন হচ্ছে বলতো?
কামরুল: রহমত সাহেব আপনি তো তিনবার চেক করে আসলেন। কি বললেন এয়ারপোর্টের লোকেরা?
রহমত সাহেব: ফ্লাইট লেট এটাই তো বলল।
কামরুল: স্যার সম্রাট নগরের জঙ্গলে আলো থাকতে থাকতে পেরোতে পারব বলে তো মনে হচ্ছে না।
রহমত সাহেব: এভাবে বলিস না রে কামরুল। আমার সুগার বেড়ে যাবে।
কামরুল: স্যার ওইতো মনে হয় এসে গেছে ওনারা
এয়ারপোর্ট থেকে বের হতেই ওরা দেখতে পেলো দু'জন মাঝবয়সী লোক অর্থাৎ রহমত সাহেব ও কামরুল গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওদের জন্য। ওরাও ব্যাগ গাড়ির পেছনে রেখে, গাড়িতে উঠে পরলো। এর মধ্যে কামরুল হলো ড্রাইভার। আর রহমত সাহেব হলেন সিদ্ধার্তর দাদুমনির পিএ।
রহমত সাহেব: কোনো সমস্যা হয় নি আসতে?
সিদ্ধার্ত: না আঙ্কেল কোনো সমস্যা হয় নি।
রহমত সাহেব: আচ্ছা আচ্ছা তাহলে তো খুব ভালো।
সিদ্ধার্ত: জ্বি।
রহমত সাহেব: কামরুল গাড়ি তাড়াতাড়ি চালা। সন্ধ্যার আগে আমাদের জঙ্গল পেরোতে হবে। আর সাবধানে চালাবি।
কামরুল: মনে হয় না পারব স্যার।
বেশ কিছুক্ষণ যাওয়ার পর হঠাৎই রিমি বলে উঠলো।
রিমি: গাইস আ'ম হাংরি।
সিদ্ধার্ত: রিমি তুই আর সময় পেলি না?
রহমত সাহেব: কি হয়েছে বাবা?
সিদ্ধার্ত: তেমন কিছু না আঙ্কেল। ওই রিমির একটু খিদে পেয়েছে এই আর কি।
রহমত সাহেব: আগে বলবে তো। এখন তো আমরা জঙ্গলের রাস্তায়। এখন খাবার কোথায় পাবো বলো?
অয়ন: ডোন্ট ওয়ারি আঙ্কেল। মে হু না!
অনিশা: তুমি আবার কি করবে?
অয়ন ওর কাঁধের ব্যাগ থেকে একটা কাপ নুডুলস বের করে রিমিকে দিল।
রিমি: ওয়াও কাপ নুডুলস। কিন্তু গরম পানি কোথায় পাবো?
অয়ন: মে হু না।
অয়ন নিজের ব্যাগ থেকে ফ্লাক্স বের করে রিমিকে দিল। অতঃপর অয়ন সবাইকে একটা করে নুডুলসের কাপ এগিয়ে দিল। খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই অয়নের চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
রিদ: কি হয়েছে অয়ন?
অয়ন: ওয়াশরুম যাবো পটি পেয়েছে।
সিদ্ধার্ত: ছি অয়ন স্টপ ইয়র মাউথ।
অনিশা: তুমি আর সময় পেলে না?
রিমি: মাত্রই খেলি আর এখনি হজম করার জন্য পাগল হয়ে গেলি?
অয়ন: আরে কিভাবে আটকাব আমি।
রহমত সাহেব: সবকিছু ঠিকঠাক আছে তো সিদ্ধার্ত বাবা?
সিদ্ধার্ত: আঙ্কেল অয়নের পটি পেয়েছে।
রহমত সাহেব: পটি? দেখো অয়ন বাবা একটু সবুর করো। এখানে তুমি কোথায় পটি করবে বলো? এটা তো জঙ্গল।
সিদ্ধার্ত: আঙ্কেল গাড়ি থামান নাহলে দেখা যাবে এ গাড়ির মধ্যেই কাজ শেষ করে ফেলেছে।
রহমত সাহেব: না না এখানে তুমি পটি করতে নামলে পরে দেখা যাবে বাঘ অথবা সিংহের খাদ্য হয়ে যাবে তুমি।
অয়ন: না না আঙ্কেল আমি ঠিক আছি। গাড়ি চলতে থাকুক। আমি নাহয় পরেই করব।
রহমত সাহেব: আচ্ছা।
সন্ধ্যা ৭ টা বাজে। ওরা এখনো সম্রাট নগরের জঙ্গলে অবস্থান করছে। চারিদিকে আকাশে কালো মেঘ জমেছে। অন্ধকারে ছেয়ে আছে চারপাশ। কামরুল রীতিমতো ঘেমে একাকার হয়ে গিয়েছে। রহমত সাহেব ও হালকা কাঁপছেন। সিদ্ধার্তরা সবাই স্বাভাবিক আছে। চারিদিকের পরিবেশ সুবিধার মনে হচ্ছে না কামরুল আর রহমত সাহেবের কাছে। কামরুল ঠিক ভাবে গাড়ি চালাতে পারছে না।
রহমত সাহেব: কি হয়েছে কামরুল?
কামরুল: রহমত সাহেব ভয় করছে আমার। ভূত মনে হয় নিজের কাজ শুরু করে দিয়েছে।
বলতে না বলতেই গাড়ি থেমে গেল। গাড়ির টায়ার ব্লাস্ট হয়ে গিয়েছে। অয়ন গাড়ি থেকে নামতে যাবে ওমনি কামরুল অয়নকে বাঁধা দিল।
কামরুল: বাবা আপনারা কেউ নামবেন না। আমি আর রহমত সাহেব দেখছি।
অয়ন গাড়ির দরজা আবার লাগিয়ে দিল।
কামরুল: রহমত সাহেব আ..আপনি নিচ..নিচে নামুন। আমিও আস..আসছি।
রহমত সাহেব: আ..আমি?
কামরুল: হ..হ্যা।
রহমত সাহেব: আ..আচ্ছা।
ওনারা দু'জন নিচে নামতেই এক দমকা হাওয়া ভেসে আসলো।

Comments
Post a Comment