❤❤গল্পঃভালোবাসা❤❤

অসাধারণ একটি গল্প:-
অয়ন:- তুই রাতে কার সাথে ফিসফিস করিস রে তুলি?
তুলি:- কই কারো সাথে নাতো ভাইয়া।
অয়ন:- মিথ্যা বলবি না একদম। আমি তো বুঝি নাকি! ছেলেটা কে?
তুলি:- ইয়ে মানে, সিয়াম।
অয়ন:- তুই পুচকে একটা মেয়ে হয়ে প্রেম করিস?
তুলি:- ভাইয়া তুমি ও তো আরিফা আপুর সাথে প্রেম করো। আমি কি কিছু বলি?
অয়ন:- চুপ বেয়াদব। ছেলে কি জানে তোর বড় ভাই আছে?
তুলি:- না।
অয়ন:- জানিয়ে দিবি। সে যদি সাহসী হয়, আমার চোঁখের সামনে দিয়ে তোর হাত ধরে নিয়ে যেতে পারে তবেই তোর প্রেম মেনে নিবো।
তুলি:- চ্যালেন্জ দিচ্ছো?
অয়ন:- হ্যাঁ।
তুলি:- ওকে ডান।
অয়ন:- তোর আরিফা আপু তোর সাথে অনেকদিন ধরে দেখা করতে চাই। পরশু বিকালে তোর টাইম হবে?
তুলি:- হ্যাঁ হবে। কোথায় আসবো?
অয়ন:- খাই খাই রেস্টুরেন্টে ! তোর আরিফা ভাবি মানে আপু ট্রিট দিবে।
তুলি:- হিহি। আচ্ছা ভাইয়া আসবো।
ভাইয়া চলে যাওয়ার পর তুলি কল দিলো তার বয়ফ্রেন্ড সিয়াম কে!
তুলি:- হ্যালো সিয়াম?
সিয়াম:- হ্যাঁ বলো।
তুলি:- তুমি কি আমার বড় ভাইয়ের সামনে দিয়ে আমার হাত ধরে নিয়ে যেতে পারবা?
সিয়াম:- কিহ তোমার বড় ভাই আছে? আগে বলোনি কেনো? আগে জানলে তোমার সাথে প্রেম করতাম না।
তুলি:- ধুর ছাই, রাখো তুমি। ভীতুর ডিম। তুলি ভাবতে শুরু করে। অন্য পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
বিকাল ৫টা। খাই খাই রেস্টুরেন্টে বসে আছে তুলি আর তুলির বড় ভাই অয়ন। আরিফা এখনো আসেনি। অয়ন খোঁজ নিয়ে জানলো রাস্তায় আছে। চলে আসবে।
অয়ন:- খাওয়া কি এখনি অর্ডার দিব নাকি তোর ভাবি আসলে? আই মিন তোর আপু আসলে?
তুলি:- হইসে হইসে। আজ থেকে ভাবি ডাকব। ভাবি আসুক তারপর অর্ডার দিও।
অয়ন:- ওকে।
দুজন বসে গল্প করছে। এরপর হুট করে সিয়াম তাদের টেবিলের সামনে এসে হাজির। একবার অয়ন এর দিকে তাকালো আরেকবার তুলির দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো। তারপর তুলির হাত ধরে টেনে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেলো। অয়ন ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো।
নদীর ধারে বসে আছে সিয়াম আর তুলি। সিয়াম বললো।
সিয়াম:- ছি ছি তুলি তুমি আমাকে ধোঁকা দিতে পারলা? তুমি আরেকটা ছেলের সাথে।
তুলি:- ওয়েট ওয়েট একটা কল দিয়ে নি। হ্যালো ভাইয়া, চ্যালেন্জ তো হেরে গেলা। আর আমার বয়ফ্রেন্ড তোমার চোঁখের সামনে দিয়ে আমার হাত ধরে নিয়ে গেলো। এটাই আমাদের কাছে আসার সাহসী গল্প।
এবার সিয়ামের অবাক হওয়ার পালা।
সিয়াম:- ঐটা তোমার ভাই ছিলো? কিন্তু তোমার বান্ধবী যে বললো, তুমি অন্য ছেলের সাথে রেস্টুরেন্টে ডেটিং করছো?
তুলি:- আরে ঐটা আমি বলতে বলেছিলাম। যাতে তুমি রাগ করে আমার হাত ধরে নিয়ে যাও। আমার প্ল্যান সফল হয়েছে।
সিয়াম:- মানে উনি তোমার ভাই অয়ন?
তুলি:- হুম।
একথা শুনে সিয়াম সেন্সলেস।
ঐদিকে আরিফা উপস্থিত।
আরিফা:- কি ব্যাপার অয়ন, তুলি কোথায়?
অয়ন:- নিয়ে গেছে।
আরিফা:- মানে? কে নিয়ে গেছে?
সিয়াম:- তার প্রেমিক।
তারপর সব ঘটনা খুলে বললো আরিফা কে। আরিফা শুনে হাসতে হাসতে শেষ। হাসতে হাসতে বললো,
আরিফা:- বড় ভাই হয়ে তো খুব পার্ট নিলা । অথচ আমার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে বললে দেখা করতে চাও না। কিসের এত ভয়?
অয়ন:- প্রেমিকার বড় ভাই থাকা মানেই আতংক। যাই হোক, কি খাবা বলো?
খাওয়া দাওয়া শেষ করে বিল দিতে যাবার পালা। এক হাজার টাকা বিল। আরিফা বললো,
আরিফা:- বিলটা কি আমি দিবো?
অয়ন:- না না। আমি দিচ্ছি। পকেট থেকে এক হাজার টাকার নোট বের করে ম্যানেজারের হাতে দিলো অয়ন। ম্যানেজার জিজ্ঞেস করলো,
ম্যানেজার:- খাবারের মান কেমন ছিলো?
অয়ন:- হুম ভাই অসাধারণ। আগে তো এই রেস্টুরেন্টের নামই জানতাম না। আরিফা নিয়ে এসেছে।
ম্যানেজার:- থ্যাংকস। আবার আসলে খুশি হব।
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে আসলো অয়ন আরিফা। অয়ন জিজ্ঞেস করলো,
অয়ন:- তোমার বাবা এখন কেমন আছেন? দুদিন আগে অসুস্থ বলেছিলে?
আরিফা:- হ্যাঁ ভালই আছেন। তবে রেস্টে আছেন!
অয়ন:- ওহ তাহলে আংকেলের রেস্টুরেন্ট কে দেখাশোনা করছে?
আরিফা:- দেখলাই তো আমার ভাই করতেসে।
অয়ন:- মানে?
আরিফা:- মানে আরকি? আমরা যেটাতে আজ ডেটিং করলাম সেটা আমার বাবার রেস্টুরেন্ট। বাবার অবর্তমানে কিছুদিনের জন্য ভাইয়া দেখাশোনা করছে।
অয়ন:- ঐ ম্যানেজারটা তোমার ভাই?
আরিফা:- হুম। ভাইয়া আমাকে চ্যালেন্জ দিয়েছিলো, তার সামনে যদি রেস্টুরেন্টে এসে খাওয়া দাওয়া করতে পারি তাহলে আমাদের প্রেম মেনে নিবেন। এটা আমাদের কাছে আসার সাহসী গল্প অয়ন। কেমন ছিলো?
অয়ন:- খুবই ভয়ানক ছিলো। একথা বলে অয়ন সেন্সলেস।
গল্পটা কেমন হলো কমেন্টে জানাবেন।

Comments

Popular posts from this blog

মাঝে মাঝে এমন মনে হতো life এ এমন কাউকে চাই,, যার কাছে সব দুঃখ-কষ্ট Share করতে পারবো,,,এমন কাউকে চাই যার হাতে হাত রেখে সারাটাজীবন পাড় করে দিতে পারবো,,,আর সেই মানুষটিকে একদিন পেয়েও যাই,,, তকে পাওয়ার জন্য এতটাই বেস্ত ছিলাম যে,,, বুঝতেই পারি নি এ কি সেই মানুষ যাকে আমি খুজছিলাম,,, কারন feeling তো ভলোই ছিল তার সাথে দিন, রাত কথা বলা, ঘুরতে যাওয়া,,দুজন দুজনের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া,, কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে সব কিছু শেষ হতে লাগলো,, যেখানে দুজন দুজনকে খুসি রাখার চেষ্টা করতাম,, আজ সেখানে দুজন দুজনের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত,, কেন? কারন সময় তো অনেক চলে গিয়েছে,, তখনি বুঝতে পেরেছি যাকে আমি খুজছিলাম এ সে মানুষটি নয়,, এ তো সেই মানুষটি এ নয় যাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম,,, তারপর একের পর এক জগড়া মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং সবকিছু শেষ করে দিয়েছে,, যখনি তোমার প্রয়োজন তার কাছে শেষ হয়ে গিয়েছে,, তখন সে তোমার সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে,, একা করে দিয়ে চলে গিয়েছে,,,,,মাত্র ২টি Word এ It's Over,,😓😥😥 এই দুইটি শব্দে সবকিছু শেষ করে দিয়েছোনা,, সবকিছু শেষ,, চলে যাচ্ছোনা যাও,, তোমার কাছে আমার ভালোবাসা ভিক্ষা চাইবোনা, কারন আমার ভিতরের ভালোবাসাটা এতটাই নিচু নয় যে তোমার কাছে ভিক্ষা চাইতে হবে,, আর হ্যা তুমি আমাকে বলতে না তুমি আমাকে ভালোবাসো,, আরে তুমি কি জানো ভালোবাসা কাকে বলে,, ভালোবাসা আমি তে নয়,,, ভালোবাসা আমাদের হয়,,, শুধু মাত্র সুখে নয়,, ভালোবাসা দুখেও হয়,, মানছি এখানে কেউ বা পায় কেউ বা হারায়,,, কারন এখানে দুজন এর চেহারাই মাচুম,,, যে তোমার স্বার্থ নিয়ে পরে আছে সে কি বুঝবে তোমার ভালোবাসা,,, যে তোমার fail year এ নেই শুধু মত্র Success এ দাঁড়িয়ে আছে সে কি বুঝবে তোমার ভালোবাসার মূল্য,,,,তোমার কাছে টাকা না থাকলেও যে তোমার কাছে দামি দামি gift চায় সে কি বুঝবে তোমার ভালোবাসর মূল্য,,ভালোবাসা Condition এর জেলখানা নয় ভালোবাসা হচ্ছে Freedom,,,, ভালোবাসা মানে খুঝ নয় যে কতটুকু করব,, ভালোবাসা মানে যতটুকু করবো ততটুকু কম,, কিন্তু যে ছোট্ট একটি ভুলের কারনে দুইটি শব্দে ভালোবাসা শেষ করে দিয়েছে তাকে কি বুঝাবে তোমার ভালোবাসার মুল্য,, যে চলে গিয়েছে তাকে Thank You বলো কারন সে যদি তোমার ভালোবাসা মুল্য বুঝতো তাহলে এমন হতোনা,, তার এটাই মনে হতো সে একটি হিরাকে হারিয়েছে,, যে তার জীবনকে আলোকিত করতে পারতো , কিন্তু তা কোনো ব্যাপার এ নয়, তার কপাল এ খারাপ ছিলো,, আল্লাহ তাকে ভালো রাখুক,,,,

আমি চাইনি তুমি কখনো কষ্ট পাও, আমি চেয়েছি তুমি সুখী হও, তাইতো কোনো অভিযোগ করিনি অকারনে চলে গেছো বলে, আমি চাই আমার ভালবাসার মানুষটি সুখে থাকুক যেইখানেই থাকুক, কারন ভালোবাসা মানে তো সুখের নীড়, তাই আমার ভালোবাসা আমাকে যতই কষ্ট দিক, আমি চাই তার বিনিময় যেন সেই সুখে থাকে, আর তার সুখই আমার সুখ M♥S